সাত প্রকার ধ্রুপদী হস্ত
সাত প্রকার ধ্রুপদী হাতের প্রথমটি — পুরু, রুক্ষ, রেখা কম এমন হাত। বাস্তবে সত্যিকারের অপরিপুষ্ট হস্ত পাওয়াই কঠিন, আর প্রায়ই ভুল করে একে সাধারণ সমচতুষ্কোণ হস্ত বলে ধরে নেওয়া হয়।
এই ধারার সাত প্রকার ধ্রুপদী হাতের (সমচতুষ্কোণ, স্থূলাগ্র, দার্শনিক, শিল্পী, ভাবুক ও মিশ্রিত হস্তের পাশাপাশি) প্রথমটি অপরিপুষ্ট হস্ত। সভ্য ও শিক্ষিত সমাজে সত্যিকারের অপরিপুষ্ট হাত পাওয়াই কঠিন — সভ্যতা যত এগোয়, মানুষের নৈতিক ও মানসিক বিকাশও তার সঙ্গে এগোয়, তাই খাঁটি অপরিপুষ্ট হাত প্রায় দেখাই যায় না। গ্রন্থকার লিখেছেন, তাঁর সময়ে মেরুপ্রদেশ বা তাতার জাতির মধ্যে এমন হাতের সন্ধান তখনও মিলত। একটা সাধারণ ভুল হলো, অল্প রেখা বা ছোট আঙুলের যেকোনো সমচতুষ্কোণ হাতকেই "অপরিপুষ্ট" বলে ধরে নেওয়া — বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা ভুল। প্রকৃত অপরিপুষ্ট হস্ত তার চেয়ে ঢের বেশি বিরল।
কীভাবে চিনবেন: করতল পুরু ও শক্ত। করতলের তুলনায় আঙুল লক্ষণীয়ভাবে ছোট ও অসমান আকৃতির। বৃদ্ধাঙ্গুলি খুবই ছোট আর দেখতে বেঢপ, ওপরের পর্ব (নখের কাছের অংশ) পিছনে হেলানো বা বিকৃত। করতলে রেখা কম। সামগ্রিক গঠনটাকে মূল গ্রন্থই বলছে রুক্ষ, শক্ত বা কর্কশ ধরনের।
হস্তরেখা-বিচার (১৯৩৫) থেকে — অপরিপুষ্ট হস্ত
মূল গ্রন্থ (১৯৩৫) শুধু চেহারার বর্ণনায় থেমে থাকেনি — অপরিপুষ্ট হাতকে জুড়ে দিয়েছে নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠী আর হিংস্র, পশুসুলভ চরিত্রের সঙ্গে। বইটি বলছে, এই হাতের মানুষের মানসিক বিকাশ কম, তারা "প্রবৃত্তির দাস" — নিজের কাঁচা তাগিদ সামলাতে পারে না, শিল্প-কাব্য-সৌন্দর্য তাদের মনকে ছোঁয় না, স্বভাবে ভীরু হলেও রাগলে ভয়ংকর ও ক্রোধে অন্ধ হয়ে ওঠে — এমনকি প্রাণ নিতেও পিছপা হয় না — আর সহজেই এত উত্তেজিত হয়ে পড়ে যে নিজেকে সামলাতে পারে না। বইটি আরও বলছে, এমন মানুষ যুক্তি বা উচ্চাশার ধার ধারে না, খাওয়া-দাওয়া আর ভোগবিলাসকেই জীবনের মূল লক্ষ্য মনে করে, আর অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার আর "পশুসুলভ" প্রবণতাই তাদের জীবনের ছাপ। এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে চাকর, মুটে, মজুরদেরই এই ধরনের হাতের মানুষ বলে, আর আলাদাভাবে সত্যিকারের অপরিপুষ্ট হাত এখনও কোথায় মেলে তা বলতে গিয়ে "তাতার" জাতির প্রতি হেয় মন্তব্য করা হয়েছে। এটা আসলে ১৯৩৫ সালের একটা বাংলা বইয়ের নিজস্ব শ্রেণি ও জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি — শ্রম, শ্রেণি বা কোনো জাতিগোষ্ঠী নিয়ে এই কোর্সের নিজের মত নয়। মূল রূপের কাছাকাছি রেখে এখানে তুলে ধরা হলো একটা চিহ্নিত ঐতিহাসিক নমুনা হিসেবে — কোর্সের নিজস্ব সুরে নতুন করে না লিখে, আবার নীরবে বাদও না দিয়ে।
মূল বইয়ের পুরনো লেখা থেকে নেওয়া অংশ — এই কোর্স যা শেখায় বা ফ্রি রিডিং যা ব্যবহার করে, তার অংশ নয়।
কব্জি, আঙুলের গোড়া ও দুই পাশ মিলিয়ে মোটামুটি চতুষ্কোণ আকৃতির করতল, চতুষ্কোণ আঙুলের ডগা আর ছোট চতুষ্কোণ নখ — সাত ধ্রুপদী হাতের মধ্যে সবচেয়ে বাস্তববাদী, নিয়মনিষ্ঠ ও কর্তব্যপরায়ণ হাত।
সমচতুষ্কোণ হাত চেনার মূল সূত্র এটাই — কব্জি, আঙুলের গোড়া ও করতলের দুই পাশ মিলে মোটামুটি একটা চতুষ্কোণ গড়ন তৈরি হয়, আঙুলের ডগা চতুষ্কোণ, নখ ছোট ও চতুষ্কোণ। এই হাতের মানুষ সময়ানুবর্তী আর কর্তব্যপরায়ণ, নিছক আবেগের জগৎকে একটু সন্দেহের চোখেই দেখেন — তাদের কাছে যুক্তির দাম প্রেরণার চেয়ে বেশি, তাই কবিতা বা শিল্পকলার চেয়ে কাজের প্রতি টানটাই বেশি থাকে। শান্তি আর নিয়মশৃঙ্খলা তাদের প্রিয়। ধর্মের বেলাতেও নতুন আধ্যাত্মিক উপলব্ধি বা সূক্ষ্ম যুক্তির চেয়ে বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানই তাদের বেশি টানে। তারা খুব একটা মৌলিক চিন্তাবিদ নন, কিন্তু যা করেন তা মন দিয়ে, শেষ পর্যন্ত করেন — মনের দৃঢ়তা, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর লেগে থাকার ক্ষমতাই তাদের আসল পরিচয়, আর এই গুণগুলোই প্রায়ই তাদের অনেক বেশি প্রতিভাবান বা প্রেরণাসম্পন্ন মানুষের চেয়ে বেশি বাস্তব সাফল্য এনে দেয়। এঁরা কাজের জগৎকেই বেশি পছন্দ করেন — বিশেষত ব্যবসা, কৃষি, বা কর্তব্যনিষ্ঠা লাগে এমন যেকোনো কাজ; সংসারজীবনকেও প্রাধান্য দেন, স্বভাবে সরল, বন্ধুত্বে অকপট আর কর্তব্যে অবিচল। তাদের একটাই সত্যিকারের দোষ বলা যায়: সবকিছু যুক্তি দিয়ে বুঝতে চান, আর যা যুক্তিতে ধরা পড়ে না তা বিশ্বাসও করতে চান না — তাই কবিতা বা ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বোধ্য যা-কিছু, তা তাদের কাছে প্রায়ই নিরস ঠেকে। সত্যিকারের বিশুদ্ধ সমচতুষ্কোণ হাত অবশ্য খুব একটা মেলে না — বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর সঙ্গে অন্য কোনো ধরনের মিশেল থাকে, যা নিচে আলাদা করে বলা হলো।
কীভাবে চিনবেন: করতল মোটামুটি চতুষ্কোণ (কব্জি, আঙুলের গোড়া ও দুই পাশ প্রায় সমান অনুপাতে)। আঙুলের ডগা সাধারণত চতুষ্কোণ। নখ ছোট ও চতুষ্কোণ। আঙুলের দৈর্ঘ্য ও ডগার আকৃতি পাঠকে কীভাবে বদলে দেয়, তা নিচের ব্যাখ্যায় দেখুন।
প্রশ্ন 1/2
কোন ধ্রুপদী হাত সত্যিই বিরল, যদিও মানুষ প্রায়ই ছোট আঙুল বা কম রেখার যেকোনো সমচতুষ্কোণ হাতকে ভুল করে এই নামে ডাকে?