সাত প্রকার ধ্রুপদী হস্ত
ছেনি বা চামচের মতো চ্যাপ্টা ডগার আঙুল আর নখের হাত — অস্থির, উদ্যমী, স্বাধীনচেতা, চিন্তার চেয়ে কাজের দিকে ঝোঁক বেশি; পর্যটক, আবিষ্কারক আর প্রকৌশলীদের মধ্যে বেশ দেখা যায়।
স্থূলাগ্র হাতের নামটাই এসেছে এর আঙুলের ডগা আর নখের আকৃতি থেকে — চওড়া, ছেনির ফলার মতো। শক্ত, দৃঢ় স্থূলাগ্র হাতের মানুষ অস্থির আর সহজে উত্তেজিত হন ঠিকই, কিন্তু কাজ করার উৎসাহ আর ক্ষমতা দুটোই তাদের যথেষ্ট থাকে। নরম, মাংসল স্থূলাগ্র হাতের মানুষ খামখেয়ালি আর চঞ্চল — কোনো কাজ শুরু করলে খুব উৎসাহেই করেন, কিন্তু সেই উৎসাহ বেশিদিন টেকে না। মোটের ওপর এই হাতের বৈশিষ্ট্য হলো কাজের প্রতি প্রবল টান, নিজস্বতা, উৎসাহ, স্বাধীনচেতা মন, আত্মবিশ্বাস আর একটু অস্থিরতা। মূল গ্রন্থ বলছে, নাবিক, ভূপর্যটক, আবিষ্কারক, প্রকৌশলী আর যন্ত্রবিদদের মধ্যে এই হাত বেশ সাধারণ — আর যাদের অন্যেরা খেয়ালি বা সৃষ্টিছাড়া বলে ভাবে (গায়ক, ধর্মপ্রচারক, অভিনেতা), তাদের মধ্যেও বিশেষত তাদেরই, যারা সত্যিকারের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন — নতুন পথ, নতুন ধারণা বা নতুন চিন্তাধারার জন্মদাতা। যেখানে করতল কব্জির চেয়ে আঙুলের দিকে বেশি চওড়া (ছেনির মতো আকৃতি), সেখানে বাস্তবমুখী, জাগতিক সামর্থ্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে — এই ধরনের আবিষ্কারকরা ছোটখাটো কিছু নয়, বড় মাপের জিনিস গড়েন: কলকারখানা, রেলপথ, জাহাজ।
কীভাবে চিনবেন: আঙুলের ডগা আর নখ চতুষ্কোণ, সূচালো বা শঙ্কু আকৃতির নয়, বরং চওড়া আর ছেনি বা চামচের মতো চ্যাপ্টা। করতল শক্ত-দৃঢ় অথবা নরম-মাংসল হতে পারে — এটা পাঠকে কীভাবে বদলে দেয় তা নিচে দেখুন।
হস্তরেখা-বিচার (১৯৩৫) থেকে — স্থূলাগ্র হস্ত
মূল গ্রন্থের (১৯৩৫) একটি পাশ-মন্তব্য এখানে তুলে রাখার মতো: স্থূলাগ্র হাত কোন কোন পেশায় দেখা যায় তার তালিকা দিতে গিয়ে বইটি গায়ক, প্রচারক আর অভিনেতাদের একসঙ্গে ধরে বলে — “যাহাদিগকে আমরা সৃষ্টিছাড়া, খামখেয়ালী বলিয়া মনে করি”। অপরিপুষ্ট বা ভাবুক হাত নিয়ে বইটি যা বলে তার তুলনায় এটা সামান্য, আর এটা হাতের বিচারও নয়। তবু এটা হাত নিয়ে পর্যবেক্ষণ নয় — মঞ্চ-পেশার মানুষদের নিয়ে সেই সময়ের একটা মনোভাব, তাই উপরের বর্ণনায় না রেখে এখানে রাখা হলো। এই অধ্যায়ের বাকিটা এমন কাঠামো থেকে বেশ মুক্ত: বইটি স্থূলাগ্র হাতকে দেখে উদ্যমী, স্বাধীনচেতা আর আত্মবিশ্বাসী হিসেবে, আর পর্যটক, আবিষ্কারক ও প্রকৌশলীদের নাম করে তাঁদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য ছাড়াই।
মূল বইয়ের পুরনো লেখা থেকে নেওয়া অংশ — এই কোর্স যা শেখায় বা ফ্রি রিডিং যা ব্যবহার করে, তার অংশ নয়।
লম্বা, হাড়েল, গাঁটওয়ালা আঙুলের হাত — শান্ত, গভীরভাবে ভাবনাচিন্তা করা মানুষদের হাত, যাঁরা অর্থ বা আটপৌরে কথাবার্তার চেয়ে বিমূর্ত জ্ঞানের দিকেই বেশি ঝোঁকেন; মূল গ্রন্থ উদাহরণ হিসেবে টেনিসন আর কার্ডিনাল নিউম্যানের নাম বলে।
দার্শনিক হাত চেনা সহজ: গড়নে লম্বা আর হাড়েল, আঙুলে স্পষ্ট গাঁট। নখ লম্বাটে, চতুষ্কোণ আর শিল্পী হাতের মাঝামাঝি ধরনের। বৃদ্ধাঙ্গুলি বড়, তার প্রথম আর দ্বিতীয় পর্ব প্রায় সমান লম্বা। মূল গ্রন্থ বলছে, ভারতবর্ষে ব্রাহ্মণ বা যোগীদের মধ্যে এই হাত একসময় প্রচুর দেখা যেত, আর ইংরেজ কবি টেনিসন আর কার্ডিনাল নিউম্যানের হাতও এই ধরনেরই ছিল বলে জানায়। এই হাতের মানুষ চিন্তাশীল, শান্ত, বেশি কথা বলেন না; আঙুলের স্পষ্ট গাঁটগুলো তাদের গভীর, সতর্ক চিন্তাভাবনারই ছাপ — সামান্য বিষয়েও তারা সাবধানী থাকেন, আর বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে নিজের মতো করে ভাবেন, যা তাদের মনে একটা নিরব গর্ব এনে দেয়। কেউ অন্যায় করলে সহজে ভোলেন না। ধৈর্য প্রায় সীমাহীন — সুযোগের অপেক্ষায় থেকে থেকে ধৈর্য হারান না, তাই সুযোগ এলে ঠিক সময়ে তার সদ্ব্যবহার করতে পারেন। মন থাকে কৌতূহলী আর বিশ্লেষণী — কোনো কিছু ভাসাভাসা মেনে না নিয়ে ভালো করে যাচাই করে দেখেন। দার্শনিক হাত অর্থ রোজগারে খুব একটা কাজে দেয় না, কিন্তু জ্ঞানচর্চাই তো এর আসল কথা — এমন মানুষ অর্থের পেছনে ছোটার চেয়ে জ্ঞানচর্চায় জীবন কাটাতেই বেশি সুখ পান। তাদের প্রিয় বিষয়গুলোও কঠিন ধরনের — দর্শন, ধর্মতত্ত্ব, নন্দনতত্ত্ব, মনোবিজ্ঞান — প্রতিটির গভীরে গিয়ে সত্যিটা খুঁজে বের করা। এই বিষয়গুলোয় তাদের ডুবে যাওয়াটা এতটাই গভীর আর বিমূর্ত পর্যায়ে পৌঁছায় যে সাধারণ মানুষ প্রায়ই তাল মেলাতে পারেন না।
কীভাবে চিনবেন: হাত লম্বা আর হাড়েল। আঙুলে স্পষ্ট গাঁট। নখ লম্বাটে, চতুষ্কোণ আর শিল্পী আকৃতির মাঝামাঝি। বৃদ্ধাঙ্গুলি বড়, প্রথম আর দ্বিতীয় পর্ব প্রায় সমান।
হস্তরেখা-বিচার (১৯৩৫) থেকে — দার্শনিক হস্ত
মূল গ্রন্থ (১৯৩৫) এই হাতকে চিনিয়ে দেয় জাতি আর ধর্মীয় বৃত্তি দিয়ে: বলে, ভারতবর্ষে দার্শনিক হস্ত ব্রাহ্মণ আর যোগীদের মধ্যে প্রচুর দেখা যায় — পাশাপাশি ইংরেজ উদাহরণও দেয় (কবি টেনিসন, কার্ডিনাল নিউম্যান)। হাতের গড়নকে — আর তা থেকে পড়া বুদ্ধি ও স্বভাবকে — জাতির সঙ্গে বেঁধে দেওয়া মানে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সামাজিক মর্যাদার দাবি করা। এটা বইটি যে সময়ে লেখা, সেই সময়ের কথা; এই কোর্সের নয় — এই কোর্স হাতের গড়ন পড়ে সামনে থাকা হাতটা দেখে, আর কিছু দিয়ে নয়। উপরের স্বভাব-বর্ণনা (চিন্তাশীল, স্বল্পভাষী, ধৈর্যশীল, অর্থের চেয়ে দর্শন ও ধর্মতত্ত্বে বেশি টান) বইয়েরই, সেটা রাখা হয়েছে; জাতিগত দাবিটা এখানে আলাদা করে তুলে রাখা হলো, একটি চিহ্নিত ঐতিহাসিক নমুনা হিসেবে।
প্রশ্ন 1/2
চওড়া, ছেনির মতো আঙুলের ডগা আর নখ, অস্থিরতা, আর কাজের প্রতি প্রবল টান — কোন ধ্রুপদী হাতের চিহ্ন?
মূল বইয়ের পুরনো লেখা থেকে নেওয়া অংশ — এই কোর্স যা শেখায় বা ফ্রি রিডিং যা ব্যবহার করে, তার অংশ নয়।