jotishAIকোর্স
সাইন ইন
← কোর্সে ফিরুন

সাত প্রকার ধ্রুপদী হস্ত

অনুভূতিপ্রবণ হাত — শিল্পী হস্ত, ভাবুক হস্ত, মিশ্রিত হস্ত

শিল্পী হস্ত

Illustration of a artistic hand

মাঝারি আকারের, নরম, পুষ্ট করতলের হাত, যা মোচার মতো ক্রমশ সরু হয়ে আসে — আবেগপ্রবণ, শিল্পপ্রেমী, বুদ্ধি দ্রুত চলে কিন্তু অধৈর্য, সামান্য কারণেই মন আনন্দে বা বিষাদে দুলে ওঠে।

শিল্পী হাত মাঝারি আকারের, করতল নরম আর পুষ্ট, দেখতে অনেকটা মোচার মতো — আঙুলের কাছে ভরাট, কব্জির দিকে ক্রমশ সরু। আঙুল মসৃণ, গাঁট তেমন বোঝা যায় না। মূল গ্রন্থ বলছে, এই আকৃতির হাত পারস্য, গ্রিস, ইতালি আর আয়ারল্যান্ডে বেশ সাধারণ, আর এদেশে মাঝেমধ্যে অভিজাত বংশেও দেখা যায়। এর সবচেয়ে বড় পরিচয় আবেগীয় সংবেদনশীলতা — বাস্তবতার চেয়ে অনুভূতি আর প্রেরণাই এখানে বেশি কথা বলে। সমচতুষ্কোণ বা স্থূলাগ্র হাতের মতো এটা অর্থ আনার হাত নয়, কিন্তু কল্পনার জগৎ, অপার্থিব সৌন্দর্য, কবির মনের ভাব — এসব তার জন্য চিরকাল খোলা থাকে। এই হাতের মানুষের বুদ্ধি তীক্ষ্ণ, বিষয় ধরে ফেলেন চোখের পলকে, কিন্তু ধৈর্য এত কম যে কোনো কাজ প্রায়ই শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারেন না। কথায় তারা অসাধারণ প্ররোচক — প্রায় যেকোনো বিষয়ে সহজেই শ্রোতাকে মুগ্ধ করে ফেলতে পারেন — কিন্তু সেই কথার আড়ালে গভীরতা প্রায়ই কমই থাকে; কারণ তারা সুচিন্তিত বিচারের বদলে সেই মুহূর্তের প্রেরণাতেই ভর করে চলেন। সামান্য কারণেই রেগে যান বা মন খারাপ করেন, তবে সে অনুভূতি কেটেও যায় দ্রুত। চারপাশের ঘটনা আর কাছের মানুষজন তাদের মনের ওপর সত্যিকারের প্রভাব ফেলে। স্বভাবে তারা উদার আর সহানুভূতিশীল — অথচ নিজের আরামের বেলায় বেশ স্বার্থপরের মতোও আচরণ করে ফেলতে পারেন। সামান্য বিষয়েই মন এভাবে দুলে ওঠে বলে বাস্তব জগতে একটা স্থায়ী জায়গা করে নিতে এই ধরনের মানুষকে প্রায়ই বেগ পেতে হয়; সৌন্দর্য আর কারুকাজ তারা গভীরভাবে উপভোগ করতে পারেন, কিন্তু শিল্পী হিসেবে সেটাকে জীবিকায় বদলাতে কষ্ট হয় — যদি না করতলে একটু বাড়তি দৃঢ়তা থাকে (দেখুন ব্যাখ্যা)।

কীভাবে চিনবেন: করতল মাঝারি আকারের, নরম আর পুষ্ট, মোচার মতো কব্জির দিকে ক্রমশ সরু হয়ে আসে। আঙুল মসৃণ, গাঁট স্পষ্ট নয়। নখ তুলনায় লম্বাটে। করতলের দৃঢ়তা, আঙুলের ডগার আকৃতি আর বৃদ্ধাঙ্গুলির আকার পাঠকে কীভাবে বদলে দেয়, তা নিচে দেখুন।

ভাবুক হস্ত

Illustration of a psychic hand

সাত ধ্রুপদী হাতের মধ্যে দেখতে সবচেয়ে সুন্দর — লম্বা, সূক্ষ্ম, গাঁটহীন আঙুল, চাঁপার কলির মতো ক্রমশ সরু — কোমল, আদর্শবাদী মানুষদের হাত, যাদের স্বজ্ঞা প্রবল কিন্তু বাস্তবের মাটিতে পা কম।

ভাবুক হাত শিল্পী হাতের খুব কাছাকাছি, তাই পার্থক্যটা বোঝা জরুরি: শিল্পী করতল মাঝারি আকারের, আঙুল কেবল ডগার দিকে গিয়ে সরু হয়; কিন্তু ভাবুক হাতের পুরো গড়নটাই লম্বা আর সূক্ষ্ম — অথচ এই লম্বাটে ভাবটা হাতের সৌন্দর্য এতটুকু কমায় না। আঙুল ক্ষীণ, চাঁপার কলির মতো ক্রমশ সরু, দেখতে সাত ধরনের মধ্যে সত্যিই সবচেয়ে সুন্দর; করতল খুব লম্বাও নয়, খুব চওড়াও নয়, আঙুলে স্পষ্ট গাঁট নেই, আর ছোট্ট, সুগঠিত বৃদ্ধাঙ্গুলিসহ পুরো হাতটাই শরীরের তুলনায় ছিমছাম আর লাবণ্যময়। এই হাতের মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে ঢের বেশি কল্পনাপ্রবণ আর আদর্শবাদী — সব রকম সৌন্দর্যের পূজারি, স্বভাবে কোমল, আর একবার যাকে ভালোবাসেন তাকে সম্পূর্ণ, নিঃসংকোচে বিশ্বাস করেন, কিছুই লুকান না তার কাছে। যা তাদের নেই তা হলো বাস্তবের শক্তি: জীবনের রোজকার লড়াইয়ে এঁরা তেমন পোক্ত নন, আর বাস্তববুদ্ধি দিয়ে জগতে চলার কায়দাটা আসলে তাদের জানা নেই। নিয়মশৃঙ্খলা, কর্তৃত্ব বা সময়ের দাম বোঝার বোধ তাদের কম, আর অন্যেরা সহজেই তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে — নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও অন্যের কথা এড়িয়ে চলাটা তাদের পক্ষে প্রায়ই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মন তাদের স্বভাবতই ঝোঁকে আধ্যাত্মিকতা আর ভক্তির দিকে; ভেতরে সত্যিকারের আধ্যাত্মিক টান থাকে, কিন্তু সেটাকে পুরোপুরি বুঝে জীবনে ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা তাদের নেই — ধর্মের বেলাতেও যুক্তি দিয়ে সত্য খোঁজার চেয়ে বাহ্যিক জাঁকজমকই তাদের বেশি টানে: মন্ত্র, গান, আচার-অনুষ্ঠান — যুক্তিনির্ভর সত্যানুসন্ধান তাদের একেবারেই টানে না। জীবনটা তাদের কাছে এক গভীর বিস্ময় আর রহস্য মনে হয়, আর অপার্থিব বা জাদুর মতো যা-কিছু, তা তাদের মন পুরোপুরি দখল করে নেয়। তাদের সবচেয়ে বড় গুণ স্বজ্ঞা — মূল গ্রন্থ বলছে এতটাই প্রবল যে ঘটনা ঘটার আগেই তারা তা টের পান, এমনভাবে যা অন্যকে অবাক করে দিতে পারে; সেই কারণেই তারা সত্যিকারের দক্ষ দিব্যদ্রষ্টাও হতে পারেন। এও বলা হয়েছে যে তারা নিজেকে নিয়ে বাড়াবাড়ি রকম সচেতন, নিজের জীবন বৃথা গেছে বা কোনো প্রকৃত উদ্দেশ্যের যোগ্য নয় — এমন একটা অনুভূতিতে প্রায়ই ভোগেন, যা সবচেয়ে তীব্র হলে কিছুদিনের জন্য তাদের মনমরা আর বিষণ্ণ করে রাখে।

কীভাবে চিনবেন: পুরো হাতটাই (শুধু আঙুল নয়) লম্বা আর সূক্ষ্ম, সামগ্রিকভাবে লাবণ্যময় ও দীর্ঘায়ত দেখতে। আঙুল ক্ষীণ, ক্রমশ সরু, গাঁটহীন — মূল গ্রন্থে চাঁপার কলির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। করতল খুব লম্বাও নয়, খুব চওড়াও নয়। বৃদ্ধাঙ্গুলি ছোট আর সুগঠিত। শিল্পী হাত থেকে আলাদা করতে হলে দেখুন পুরো হাতটাই লম্বাটে কিনা, শুধু মাঝারি করতলে সূক্ষ্ম আঙুল থাকলেই হবে না।

মিশ্রিত হস্ত

Illustration of a mixed hand

যে হাতের আঙুলগুলো কোনো একক ধরনে মেলে না — একটা চতুষ্কোণ, একটা স্থূলাগ্র, একটা দার্শনিক — সহজে মানিয়ে নেওয়া, চটপটে মানুষদের হাত, যারা প্রায় সবকিছুতেই একটু একটু দক্ষ, কিন্তু কোনো একটাতে পুরোপুরি সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন কমই।

সমচতুষ্কোণ, স্থূলাগ্র, দার্শনিক, শিল্পী বা ভাবুক — এই কোনো একক শ্রেণিতেই যে হাত পুরোপুরি বসে না, তাকেই সাধারণত বলা হয় মিশ্রিত হস্ত। এমন হাতের প্রতিটি আঙুল ঝোঁকে আলাদা আলাদা ধরনের দিকে: একটা সূচালো, একটা চতুষ্কোণ বা স্থূলাগ্র, আরেকটা দার্শনিক গোছের। এর মানুষ প্রায় সবকিছুতেই একটু একটু দক্ষতা দেখাতে পারেন, আর স্বভাবও তেমনই বদলে বদলে যায় — যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেন, প্রায় সবার সঙ্গেই মিশে যেতে পারেন। বেশ চতুর, কিন্তু মন একটা জায়গায় স্থির হয়ে বসে না। বিজ্ঞান, সাহিত্য বা প্রায় যেকোনো বিষয়ে মোটামুটি ভালোই বলতে পারেন, সংগীত, ছবি আঁকা, যন্ত্রকৌশল বা পড়াশোনা — সবকিছুতেই হাত দেন, কিন্তু কোনোটাতেই স্থায়ীভাবে সবার সেরা হয়ে ওঠেন না। যেখানে তাদের আসল শক্তি বোঝা যায় তা হলো কৌশল, বিচক্ষণতা আর কূটবুদ্ধি লাগে এমন যেকোনো কাজ — তাই এই ধরনের অনেকেই রাজনীতিতে বেশ মানিয়ে যান। তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় বলতে গেলে এটাই: যেকোনো জায়গায় স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, আর মনের এই বদলে যাওয়ার স্বভাব — এই মানিয়ে নেওয়ার গুণের জোরেই কোনো কাজকে তাদের কখনো খুব কঠিন মনে হয় না। যেকোনো অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন বলে সুখে বা দুঃখে তারা খুব একটা বিচলিতও হন না, আর শরীর ও মন — দুই ধরনের কাজেই সমান স্বচ্ছন্দ। মিশ্রিত হাত পড়ার জন্য মূল গ্রন্থ দুটো নিয়ম দেয়: প্রথমত, শিরোরেখা যদি বাকি রেখাগুলোর চেয়ে অস্বাভাবিক স্পষ্ট আর জোরালো হয়, তাহলে সেই মানুষ তার বিচিত্র ক্ষমতাকে যেখানে সত্যিই সবচেয়ে দক্ষ সেখানে কেন্দ্রীভূত করেন, বাকি ক্ষমতাগুলোকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করেন — সবকিছুতে সমান করে ছড়িয়ে দেন না। দ্বিতীয়ত, আঙুল মিশ্রিত ধরনের হলেও করতল যদি স্পষ্টভাবে অন্য কোনো একক ধরনে (শিল্পী, দার্শনিক, সমচতুষ্কোণ ইত্যাদি) পড়ে, তাহলে আঙুলের মিশ্রতা সত্ত্বেও সেই মানুষের মন তেমন বদলপ্রবণ হয় না, আর সাধারণত সত্যিকারের বিশুদ্ধ মিশ্রিত হাতের চেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত সাফল্য পান — যদিও ঠিক কোন বিষয়ে তা নির্ভর করে করতলের অন্যান্য চিহ্নের ওপর, শুধু হাতের ধরনের ওপর নয়।

কীভাবে চিনবেন: প্রতিটি আঙুল আলাদা আলাদা ধ্রুপদী ধরনের দিকে ঝোঁকে, একক কোনো ধরনে মেলে না (যেমন একটা সূচালো, একটা চতুষ্কোণ, একটা দার্শনিক)। কোন উপশ্রেণি খাটে তা বুঝতে দেখুন শিরোরেখা অস্বাভাবিক জোরালো কিনা, আর করতল নিজে (আঙুল বাদ দিয়ে) অন্য কোনো একক ধরনে পড়ে কিনা — দেখুন ব্যাখ্যা।

প্রশ্ন 1/3

দ্রুত বুদ্ধি, প্রবল আবেগ, প্ররোচনায় ভরা কথাবার্তা, কিন্তু শুরু করা কাজ শেষ করার মতো ধৈর্যের অভাব — এটা কোন ধ্রুপদী হাতের বর্ণনা?